ব্যক্তিগত
ব্যক্তিগত
আমার পিতামহ ছিলেন পক্ষীবিদ। না না
,কোনো বই টই লেখেননি কখনও ।লেখাপড়াই জানতেন না। পাখি ধরার বিদ্যে আয়ত্ত
করেছিলেন ব'লে তাকে পক্ষীবিদ ভাবা
অনুচিত নয় আমার ধারণা ।
সেই পেশায় আমার বাবা আর ঢোকেনি,
বরং খাঁচা বানানোর বিদ্যে রপ্ত করেছিল । পিতামহ জালে পাখি ধরতেন
আর বাবা তাদের খাঁচায় পুরতো । ভোর
ভোর উঠে প'রে গরুর খড় কাটতে কাটতে
পিতামহ গাইতেন - " শূক বলে ওগো শারি ঘুমায়ো না আর / এ জীবন চলে গেলে আসে না আবার
" । কৈশোরে
ঐ গানের খেই পাই নি ।একটু
বড় হলে বৈপরীত্যে অবাক হয়েছি ।
বাবাকে জিগ্যেস করলে বলেছে - '
বয়স বাড়লে অমন হয় ।"
আমার বাপ ঠাকুর্দা লেখাপড়া শেখেনি । প্রাইমারিতে ভর্তি নিয়ে
বাবা ও ঠাকুর্দার তর্কাতর্কি ।
বাবা আমাকে পড়াতে চায়নি । ঠাকুর্দার ইচ্ছেয় আমি
লেখাপড়া শিখেছি । বাবার
খাঁচা, ঠাকুর্দার পাখি - কোনো কিছুই আমার
শেখা হল না,শুধু মুক্ত পাখির মতো উড়ছি আজ। ও দাদা,আমাকে ধরো ।
ও বাবা,আমাকে খাঁচায় পোরো ।
ঠাকুর্দার ভোরের গানের মানে আজ আমি বুঝি
। এখন
শুধু মনে হয় - রোজ ঠাকুর্দা আমাকেই ভালোবেসে জালে ধরতেন,
বাবা আমাকেই খাঁচায় পুরতো প্রতিদিন ।

Comments
Post a Comment