Posts

Showing posts from August, 2018

রিভেঞ্জ

Image
রিভেঞ্জ এক্সামের আগের রাতে একটা মাঝারি সাইজের পোকা   ভীষণ জ্বালাচ্ছিল । কানে এসে বসে, নাকে খোঁচা দেয়, গালে কুটুস কামড়ায় । রাত দুটোয় ঘুমনোর পূর্বমুহূর্তে, আমি বইয়ের কভার দুটো দুহাতে ধ’রে, পোকাটিকে পিষে দিলাম বইয়ের ভেতরে । একমাস পরে বইটি খুলতেই দেখি, একটা পেজের দুটো শব্দ ঢেকে চিরঘুমে জ্বালাতুনে পোকা । শবদেহ খুঁটতেই শব্দ দুটো উঠে গেল । সেই থেকে ওই লাইনটা, ওই পেজটা, ওই চ্যাপ্টারটা   আর পড়তেই পারছি না ।

পুতুলসোনা

Image
পুতুলসোনা মেয়েকে বলি, প্রতিটি পুতুলসোনা বিষণ্ণ হয়। সেই নম্র বিষণ্ণতার মধ্যে পাখি ওড়ে, দূরের আকাশে । বস্তুত পাখিরা সব যূথবদ্ধ,বড় অভিমানী ।একটি আচমকা ঢিল তাদের উড়িয়ে দিতে পারে। মেয়ে এসবের কিছুই বোঝে না। আদুরে পুতুলসোনার চুল আঁচড়ায়, খেলনার ঘরকন্না করে। শুধু মা বকলে, কেঁদে ফেলে, অভিমান করে। দেখি,নিমেষেই দুষ্টুমি, হি হি হাসি, পাগলামি উড়ে গেল। আমি চোখ মুছে দিই, আদর করি, চুপ করে থাকি । আসলে, প্রতিটি গাছ প্রিয় পাখিদের ফেরার অপেক্ষায় চুপ থাকে, দিনভর ।

মাছ ১

Image
মাছ ১ হে মাছ, তোমাকে আমি চোখের অধিক মনে করি । ধীবরের জাল থেকে পাতে পাতে নিয়তি তোমার আর চোখ শুধু প্রেমিকের, চোখ শুধু শাসানির সমস্তদিন তুমি নিজেকে গোপন রাখো জলের গভীরে আর চোখ শুধু বিরহেই গলে – হে প্রেম, হে ক্রোধ ,হে আমার অদ্বৈত বিরহ ভেবে দেখ, তোমরা ঘুমন্ত মাছ কখনও দেখনি ।

কুকুর ১

Image
কুকুর   ১ এককালে আমাদের তল্লাটে ঘরে-ঘরে অলিতে-গলিতে অনেক কুকুর ছিল। বাড়ির পোষ্যের জন্য বাবা প্রতিদিন পাঁচ-সাতশ মাংস কিনে আনত ,মা ছোট ছোট পিস বানাত মন দিয়ে ,বৌ রান্না করত। আমি জুলজুল চোখে শুধু আলুসেদ্ধ-ভাত খেয়ে অফিস চলে যেতাম। সেখানে বসের সামনে কুঁইকুঁই ,একা চেম্বারে ঘরঘর করতে করতে সন্ধেবেলায় ঘরে ফিরলে পোষা কুকুর ঝাঁপিয়ে পড়ত কোলে । নিজের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঘেউঘেউ করতে করতে এক সন্ধ্যায় আমি কুকুর হয়ে গেলাম, ড্রয়িং রুম থেকে সিঁড়ি পেরিয়ে নেমে এলাম রাস্তায় । অচেনা কুকুর দেখে পাড়ার কুকুরেরা তেড়ে এল, ছেঁকে ধরল, কামড়ে দিল ঘাড়। আমার ঘেউঘেউ এল না, কুঁইকুঁই করতে করতে নিজের ড্রয়িং রুমে ফিরে দেখি, পোষ্য কোলে বাবা খবর শুনছে, মা উল বুনছে,বৌ বিস্কুট খাচ্ছে । আমাকে দেখে ছেইছেই করে তাড়িয়ে দিল । সেই থেকে আমি না-ঘরকা না-ঘাটকা হয়ে বাড়ির সদর দরজায় বসে থাকি । পথচলতি লোকজন ভাবে, প্রভুভক্ত কুকুর পাহারায় আছে। কিন্তু আমি এতোদিনে জেনে গিয়েছি , মানুষের চেয়ে প্রকৃত কুকুর হওয়া অনেক কঠিন ।

পথ

Image

ফুলদানি

Image
ফুলদানি এক-একটি ফুলগাছ তবু উদাসীন, নির্মোহ হয় আশ্চর্য কুঁড়ির স্বপ্নে রাত জাগে, ঝরে যায় ফুল এই তবে পরম্পরা ! এই তবে প্রজন্মের ভার ! অলংকৃত ফুলদানি শুধু ঘর সাজানোর অছিলায় জেনে যায় – আহত ফুলেরা সব আত্মহত্যা-টানে শুকনো হয় ,বুক জুড়ে পড়ে থাকে নিরাসক্ত জল ।

প্রতিধ্বনি

Image
প্রতিধ্বনি সমাহিত ব্যথার মেঘ জমে ওঠে , ছুঁয়ে থাকে আমাকে - তোমাকে । বোবা আর্তির মতো হাওয়া ঘোরে ফেরে এদিক সেদিক । দৃঢ় পাহাড় আর শূন্য উপত্যকার ছিন্ন উপমা নিয়ে নিকটে থেকেও তবু ছোঁয়াছুঁয়ি নেই । একে যদি না - পাওয়াই ভাবো , তবে বলি – তৃপ্ত মানুষ যদি একবার ভালোবাসা উচ্চারণ করে তুমি - আমি বারংবার প্রতিধ্বনি করি ।

শীতসকালের রোদ

Image
শীতসকালের রোদ এই শীতসকালে আমি রোদের ভেতর ঢুকে মনে করছি মায়ের গর্ভধারণের কথা । দুলে দুলে পড়ছি আর বইয়ের অক্ষরগুলো বাবার আনন্দের মতো । আমাকেও পড়ে ফেলছে বই ? রোদের তলপেটে যে মানুষ কান রাখছে সকালে রাতে সেই উষ্ণতার খোঁজে ঠোঁটে চুমু খাবে । ফাল্গুনে রাঙা পলাশের মতো প্রসব যন্ত্রণা ছিঁড়ে আমিই তো কচি পাতা ভূমিষ্ঠ হব !

হারাণ,ঈশ্বর আর আমি

Image
হারাণ , ঈশ্বর আর আমি আমার ঘিলুর জল বাষ্পীভূত সকালে বিকেলে খালি পায়ে অলাতচক্র ভ্রমণ করি আমি , আজকাল হারাণ জেলের গুটিয়ে নেওয়া জালে চুনোপুঁটি , কুচোচিংড়ির দল । অমাবস্যার গুটোনো আলোয় নক্ষত্রের সমাবেশ আর আমার বাষ্পীভবন ! কলার দুদিকেই উচিয়েছি আজ প্যান্টের পকেট টেনে ঝুলিয়েছি বাইরে । ছ ' কান দ্বারা কলরোল শুনি ছ ' কান দিয়ে ঔদ্ধত্য বোঝাই ছ ' কান কর্তৃক শূন্যতার গর্ব করি হারাণ জাল নামায় পুকুরে , গুটোতেই থাকে , আমার চোখের মতো খুদে খুদে মাছ ধরা পড়ে । আমার চোখের গ্রন্থি ছিঁড়ে খায় বাষ্পীভবন আমার ঘিলুর জল উবে যায় ধীরে । অলাতচক্র ভ্রমণ করতে করতে প্রশ্বাস নিই ফুলে ওঠে ফুসফুস প্রসারণশীল ব্রক্ষ্মাণ্ডও ফুলতে ফুলতে নক্ষত্রদের দূরত্ব বাড়ায়! আর প্রিয়তম হারাণ গুটোতে গুটোতে ছেড়ে দেয় ফুলে ওঠে জাল জলের ভেতর । আবার পুঁটিদের শোরগোল , আবার চিংড়ির মাটিখোঁজা ! আমার শিশ্ন থেকে ঝরে যায় জন্মসম্ভাবনা অযুত শুক্রাণুর নিম্নগামী নিশ্চুপ মিছিল । প্রসারণশীল ব্রক্ষ্মাণ্ডেরও ইচ্ছে হয় ! মাঝে মাঝে বৃষ্টি নামে সহজ সরল মাঝে মাঝে ধূমকেতু ,...

সমুদ্রজন্ম

Image
সমুদ্রজন্ম যতদূর জল যেতে পারে ততদূর আমিও কি গিয়েছি কখনও ? আজরায়ুযোনি আজ মন্দাকিনীখাত যেন আমিও সমুদ্র এক তোমার স্বর্গনদী জলে ভরে দিল । যতদূর জল চলে যায় তার বেশি আমিও গিয়েছি একদিন । এখন সমুদ্রজন্মে শিশুদের নদী নামে ডাকি ।

স্নান

Image
স্নান চিলাপাতা ফরেস্টের মতো বিষণ্ণ বাথরুমে শুষ্ক শরীরে তুমি রোজ ঢুকে যাও । উসখুস বৃক্ষ তুমি বন্ধুরতা নিয়ে পড়ে ছিলে । এবার বৃষ্টি হবে এবার আকাঙ্ক্ষিত হানিমুন এল । তোমার গোপন খাঁজ জেনে গেল লালিত সাবান । ফ্যানা হয়ে গলে পড়ে সব । ঝরঝর জল ঝরে । তবু স্নান জানে শুদ্ধতার কল্পকাহিনী , জলের প্রতিটি বিন্দু পতনোন্মুখ ।

দেহ সাধনা

Image
দেহ সাধনা   অভিশপ্ত সিন্দুকে   সজ্জিত সারি সারি   নৃমুণ্ডের ভিতর একটা প্রাচীন সাপ অতন্দ্র যক্ষ যেন স্থির বসে আছে । নিষিদ্ধ ঢাকনা যদি খুলে দাও হে প্রিয় ডাকিনী চুম্বন-দংশনে আজ বিক্ষত হব । দেহ সাধনার এই কী প্রস্তাবনা তবে ! আঁচড়ের উপমা ধ’রে   সিঁড়ি বেয়ে ভয়ে ভয়ে পরিত্যক্ত হাভেলির নিচে নেমে আসি     আর ত্বরিত বিস্ময়ে দেখি – একটা অলীক পথ প্রধান ফটকে এসে আভূমি প্রণত ।

খাট

Image
খাট এই যে ইন্ট্রোভার্ট খাট ঢেউ ঢেউ গদি নিয়ে   মিকি আর মিনিময় চাদর বুকে নিয়ে প্রথম কান্না শুনেও স্থানু থেকে যায় তার চার পায়ে শ্বাপদের রক্তমাংস-লোভ   জেগে আছে ।   খুনসুটি, হৈচৈ, হাসি আর অস্ফুট গোঙানির গল্প দেখে শুনে চুপচাপ পড়ে থাকে এই আশা নিয়ে - একদিন তলাজোড়া আবছায়া অন্ধকার হবে , একদিন তার কোনও আত্মাতুতো ভাই সব   স্থবিরতা ভেঙে দিয়ে দেখতে যাবে চিতার আগুন ।