আঁকিয়ে
আঁকিয়ে
মেয়ে আমাকে গ্রামের
ছবি এঁকে দিতে বলেছে। আমি তো আঁকতেই জানি না । তবু ড্রয়িং খাতার
সাদা পাতায় আমি একটা কুঁড়েঘর আঁকলাম, তার পাশে গাছ আর নদী। সেই ঘরে কোনো
বিড়াল
মিউ মিউ করে না, গাছে কোনো পাখি নেই,নদীতে কোনো মাছ বুড়বুড়ি কাটে না।
অভিমানে
আমার ছোট্ট মেয়ে গ্রামের রঙিন ছবি ছিঁড়ে কুটিকুটি করে দিল । তার মুখে ও হাতের
আঙুলে
এখন লাল-নীল-হলুদ-সবুজ রঙ লেগে আছে,কাঁদতে কাঁদতে সে ঘুমিয়ে পড়েছে ঠাণ্ডা মেঝেয়।
দেখি,তার মুখে ছোট্ট মেনি বিড়ালের ছায়া,দু-চোখে স্তব্ধ হয়ে আছে খুদে দুটো
মাছ,মাথার ঝাঁকড়া
চুলে ডালপালা,কচি কচি পাতা গজিয়েছে, হাতে-মুখে রঙিন আকাশ, আর হৃদপিণ্ডজুড়ে
একটা অলস
ঘুঘু ডেকেই চলেছে । আমার চোখের সামনে ধীরে ধীরে জেগে উঠছে হাজার বছর আগেকার
স্তব্ধ গ্রাম
বাংলা। আর আমি এক অজ্ঞ আঁকিয়ে,যার ব্যর্থতাগুলো মেয়ের ড্রয়িং খাতার হতবাক
সাদা সাদা পাতা ।

Comments
Post a Comment